,

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩, মামলা ৪০

রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, যানবাহন, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।

ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৭৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৪৪২ পিস ইয়াবা, ৭ গ্রাম হেরোইন ও দুই ক্যান বিয়ার। এসব মাদকদ্রব্যের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উদ্ধার হওয়া অন্যান্য আলামতের সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার বিষয়টি তদন্তের অংশ হতে পারে।

মিরপুর বিভাগে গ্রেপ্তার সবচেয়ে বেশি

ডিএমপির বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন মিরপুর বিভাগে। এ বিভাগ থেকে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মতিঝিল বিভাগ, যেখানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৮২। তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৯ জন এবং ওয়ারী বিভাগ থেকে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া লালবাগ বিভাগ থেকে ৫৯ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৩ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১১ জন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে মিরপুর, মতিঝিল, তেজগাঁও ও ওয়ারী—এই চার বিভাগ থেকে মোট ৩২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অন্যান্য বিভাগ ও ইউনিটের অভিযানে আটক হন।

তবে কোনো একটি বিভাগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেশি হলেই সেখানে অপরাধের মাত্রা অন্য এলাকার তুলনায় বেশি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অভিযানের সংখ্যা ও পরিধি, অপরাধের ধরন এবং পুলিশের বিশেষ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় এ পরিসংখ্যানকে প্রভাবিত করতে পারে।

মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি যানবাহন ও মোবাইল ফোন উদ্ধার

অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি কাভার্ডভ্যান, দুটি মোটরসাইকেল, নয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২ হাজার ৪০০ টাকা। এ ছাড়া একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলগুলো কোন ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল, মোবাইল ফোনগুলো কী ধরনের অপরাধের তদন্তে জব্দ করা হয়েছে কিংবা উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট মামলার সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি ডিএমপি। একইভাবে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীর পরিচয় ও উদ্ধারের পরিস্থিতি সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উদ্ধার করা আলামত অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব আলামতের সঙ্গে অপরাধের যোগসূত্র নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।

অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান

রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদকদ্রব্যের অবৈধ বেচাকেনা প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি অপরাধের তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএমপি জানিয়েছে, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া আলামত কোন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত, তা যথাযথভাবে যাচাই করাও প্রয়োজন।

ডিএমপির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মোট ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার, ৪০টি মামলা দায়ের এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানের পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিস্তারিত চিত্র সামনে আসতে পারে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।