খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স। শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে উরুর চোটে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি। ফলে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঝমাঠে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে কোচ দিদিয়ের দেশমকে।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ আটের টিকিট, আর পরাজিত দলকে বিদায় নিতে হবে বিশ্বকাপ থেকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চুয়ামেনির ছিটকে যাওয়া ফরাসি শিবিরের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন চুয়ামেনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করা, রক্ষণভাগকে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া, বলের দখল ধরে রাখা এবং আক্রমণভাগে দ্রুত বল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি তিনি দলের কৌশলগত ভারসাম্যও বজায় রেখেছেন। কিন্তু উরুর চোটের কারণে শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না, যা দেশমের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে।
চুয়ামেনির অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের মাঝমাঠে দায়িত্ব বাড়বে অন্য মিডফিল্ডারদের ওপর। শুধু বলের নিয়ন্ত্রণ নয়, রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও হবে তাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নকআউট পর্বে ছোট একটি ভুলও পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই চুয়ামেনির শূন্যতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ফ্রান্সের বিকল্প পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।
যদিও এই ধাক্কার মধ্যেও ফ্রান্সের শক্তির জায়গা রয়ে গেছে তাদের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড। কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরে আক্রমণভাগ এখনও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতি এবং বড় ম্যাচ খেলার অভ্যাস ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তবে নকআউট পর্বে কাগজে-কলমের শক্তির চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে।
অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর প্যারাগুয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। শেষ বত্রিশের ম্যাচে তারা শক্তিশালী জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি উপহার দিয়েছে। পুরো ম্যাচে তাদের রক্ষণ ছিল সুসংগঠিত, আর গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। টাইব্রেকারেও তার দৃঢ়তা প্যারাগুয়েকে শেষ ষোলোর টিকিট এনে দেয়।
প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত ফুটবল। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জার্মানির বিপক্ষে পাওয়া সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, সুযোগ পেলে বড় দলকেও চাপে ফেলার সামর্থ্য রয়েছে তাদের।
ফ্রান্সের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। চুয়ামেনির মতো একজন পরিশ্রমী ও কৌশলী মিডফিল্ডার না থাকায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি আক্রমণের সূচনাতেও নতুন সমাধান খুঁজতে হবে দেশমকে। বিকল্প খেলোয়াড়রা যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন, তাহলে এই ধাক্কা সামলে ওঠা সম্ভব। অন্যথায় আত্মবিশ্বাসী প্যারাগুয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
সব মিলিয়ে শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে। একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে জার্মানিকে হারিয়ে উজ্জীবিত প্যারাগুয়ের আত্মবিশ্বাস। চুয়ামেনির অনুপস্থিতি ফ্রান্সের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি, তবে সেই শূন্যতা কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করাই এখন এমবাপেদের প্রধান লক্ষ্য।
মন্তব্য