চীনের ইস্পাত ভর্তুকি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে: ওইসিডি

বিশ্ব ইস্পাত বাজারে চীনের ভর্তুকি নির্ভর উৎপাদন ও রপ্তানি নীতির ফলে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানোর (ডিকার্বনাইজেশন) উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওইসিডি জানায়, চীন বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৪ সালে দেশটি ১ বিলিয়ন টনের বেশি ইস্পাত উৎপাদন করেছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটি বিপুল পরিমাণে রপ্তানির দিকে ঝুঁকেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব ইস্পাত বাজারে এখন ‘অবাজারমুখী আচরণ’ চলছে। যেসব দেশের উৎপাদকরা সরকারি ভর্তুকি পান না, তারা এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। চীনের ইস্পাত ভর্তুকির পরিমাণ অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

২০২০ সালের পর থেকে চীনের ইস্পাত রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০২৪ সালে পৌঁছেছে ১১ কোটি ৮০ লাখ টনে। বিপরীতে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ লাখ ৭০ হাজার টনে।

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার, বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট খাতে মন্দার ফলে ইস্পাতের চাহিদা কমে গেছে। এতে দেশটির বড় বড় ইস্পাত কারখানা, যেমন আংগাং স্টিল, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ওইসিডির ‘স্টিল আউটলুক ২০২৫’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীনের অতিরিক্ত রপ্তানির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ইউরোপ, জাপান, কোরিয়া, উত্তর আমেরিকা, তুরস্ক, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ায় ইস্পাত আমদানি ২০২০ সালের তুলনায় ১৩ থেকে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এতে শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেও অতিরিক্ত উৎপাদন সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশও ওইসিডি সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে ইস্পাত রপ্তানি করছে।

২০২৪ সালে শুধু ইস্পাত পণ্য নিয়ে ৮১টি অ্যান্টিডাম্পিং মামলা হয়েছে। যার ৮০ শতাংশই এশিয়ান উৎপাদকদের বিরুদ্ধে। আর এই মামলার এক-তৃতীয়াংশ চীনের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আমদানি করা সব ইস্পাতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ব্রিটেনে চীনা মালিকানাধীন একটি ইস্পাত কারখানা বন্ধের হুমকির পর জরুরি আইন করে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

ওইসিডি আরও সতর্ক করে বলেছে, সস্তা ইস্পাতের কারণে পরিবেশবান্ধব কারখানায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইস্পাত উৎপাদন বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮ শতাংশের জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যতদিন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে না আনা যাবে, ততদিন ইস্পাত শিল্প লাভজনক অবস্থায় ফিরবে না। এ সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।’