মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি কোম্পানির সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) স্বাক্ষরিত গ্যাস চুক্তি বাতিলের দাবিতে মামলা করেছে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার।
বাগদাদ থেকে এএফপি জানিয়েছে, বাগদাদের কর্মকর্তারা বলেছেন — এই চুক্তিগুলো ইরাকের সার্বভৌম অর্থনৈতিক নীতির পরিপন্থী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই সম্পাদিত হওয়ায় এগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মামলাটি করা হয়েছে বাগদাদের আল-কারখ বাণিজ্যিক আদালতে। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ‘মামলায় চুক্তিগুলো অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।’
Table of Contents
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রেক্ষাপট
গত ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার ও দুটি মার্কিন কোম্পানির মধ্যে এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। এগুলো ছিল প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং রপ্তানির দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। আর্থিক পরিমাণ ‘দশকের পর দশক মেয়াদে’ দশ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে বলে জানানো হয়।
যদিও চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম কিংবা শর্তাবলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, ধারণা করা হচ্ছে— এসব কোম্পানি ইতিমধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কার্যক্রম চালাচ্ছে কিংবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় আছে।
কেন্দ্রীয় সরকার বনাম কুর্দিস্তান: পুরোনো দ্বন্দ্ব
ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার বহুদিন ধরে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে তেল-গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েনে জড়িত। কুর্দি কর্তৃপক্ষ বারবার নিজস্ব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানিকে সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে আসছে, যা বাগদাদ বৈধ বলে স্বীকার করে না।
২০২২ সালে ইরাকের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে কুর্দিস্তানের তেল ও গ্যাস আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এবং এ ধরনের চুক্তিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ বলেও মত দেয়।
কুর্দিস্তানের প্রতিক্রিয়া
কুর্দিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কেন্দ্রীয় সরকার মামলা করে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি থামানোর চেষ্টা করছে। এই চুক্তি বৈধভাবেই সই হয়েছে এবং তা অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আদালত মামলার দাবিগুলো খারিজ করবে এবং প্রকল্পগুলো যথারীতি বাস্তবায়িত হবে।’
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনা শুধু আইনি নয়, বরং ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও সূক্ষ্ম উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম কৌশলগত মিত্র, তেমনি কুর্দিদের প্রতিও ঐতিহাসিকভাবে সহানুভূতিশীল।
এটি শুধু একটি চুক্তি নয়, বরং ইরাকের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো, ফেডারেলিজমের ভবিষ্যৎ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
এখন দেখার বিষয় — আদালত কী রায় দেয় এবং তা ইরাক-কুর্দিস্তান সম্পর্ক ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
