খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৬ পিএম

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বানিয়াচো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, একটি বালুবাহী ডাম্প ট্রাক কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে দিনাজপুর থেকে হাজীগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল আল-আরাফা নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। বানিয়াচো এলাকায় পৌঁছানোর পর দুই যানবাহনের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের চালক, সহকারী এবং কয়েকজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ডাম্প ট্রাকের চালক আবদুল ওহাব, বয়স ৪০ বছর; বাসের চালক গাইবান্ধার কামাল, বয়স ৩৫ বছর; এবং বাসের চালকের সহকারী বাগেরহাটের শোভন, বয়স ৩০ বছর।
সংঘর্ষের পর বাসটির ক্ষতিগ্রস্ত সামনের অংশে কয়েকজন আটকে পড়েন। খবর পেয়ে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে তারা বাসের ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রী ও অন্যান্য হতাহত ব্যক্তিদের বের করে আনে। উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত তিনজনকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আকলিমা জাহান জানান, আহত কয়েকজনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাঁদের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা-পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। পরে নিহত তিনজনের মরদেহ থানায় নেওয়া হয় বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান। দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাস ও ডাম্প ট্রাক দুটি জব্দ করেছে।
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কটি জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে কুমিল্লাসহ আশপাশের অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ পথে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়কের কোনো অংশে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যানবাহনের গতি ও চালকদের অসতর্কতার সম্ভাবনার কথা বললেও তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনোটি নিশ্চিত করা হয়নি। ঠিক কী কারণে দুই যানবাহন মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে বের করা হবে। জব্দ করা যানবাহন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে দায় বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য