জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাভার পরিবহনের বাসচালক, তার সহকারী এবং তাদের এক সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পরপরই পুলিশ মহাসড়কে অন্য বাস দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে বাসটি থামায় এবং ভুক্তভোগী নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাটিতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—গাড়ির চালক মো. ইমরান (৩৫), চালকের সহকারী (হেলপার) মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং তাদের পূর্বপরিচিত মো. সুমন প্রামাণিক (৩০)।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ওই নারী রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক ইমরান গাড়ি চালানোর দায়িত্ব তুলে দেন হেলপার জনির হাতে। এরপর তিনি বাসে থাকা রুবেল নামের অপর এক পুরুষ যাত্রীকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাভারের শ্রীপুর এলাকায় জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর চালক ইমরান নিজেও বাস থেকে নেমে যান। ওই সময় বাসে কেবল ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত জনি ও সুমন অবস্থান করছিলেন।
বাস ফাঁকা পেয়ে চালকের সহযোগী সুমন প্রামাণিকের প্রত্যক্ষ মদদে হেলপার জনি চলন্ত বাসেই ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এদিকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া যাত্রী রুবেল পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি কালবিলম্ব না করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানান।
ফোন পেয়েই দ্রুত অভিযানে নামে আশুলিয়া থানার একাধিক পুলিশ টিম। তারা বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের ওপর অন্য একটি বাস আড়াআড়ি রেখে কৃত্রিম ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। সাভার পরিবহনের বাসটি সেখানে পৌঁছালে সেটির গতি রোধ করে পুলিশ। সেখান থেকে ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করার পাশাপাশি হাতেনাতে আটক করা হয় হেলপার জনি ও সুমনকে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত সাভার পরিবহনের বাসটিও জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
পরদিন রবিবার ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করার পর, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মূল বাসচালক ইমরানকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, “৯৯৯ নম্বর থেকে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে পদক্ষেপ নেয়। ফলে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাস থেকে দুজনকে হাতেনাতে আটকের পর মূল চালককেও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার (২৭ জুলাই) আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
মন্তব্য