,

চট্টগ্রামে যৌথ অভিযানে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্য আটক

চট্টগ্রাম মহানগরীর অভিজাত খুলশি এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ অভিযানে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ জন সদস্য আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল নগরীর জালালাবাদ এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই অভিযান পরিচালনা করে। ডিজিটাল প্রতারণা, এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা এবং মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত এগারোটা থেকে শুরু হওয়া মধ্যরাত পর্যন্ত চলা ওই অভিযানে খুলশির কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনের আটতলা থেকে এই বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটির মূলহোতা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য তারা ওই ভবনটিকে অস্থায়ী আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।
অভিযানকালে পুলিশ তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস ও বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করেছে। জব্দকৃত সরঞ্জামের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
ক্রমিকজব্দকৃত সামগ্রীর বিবরণপরিমাণ
মোবাইল ফোন সেট১৩৪টি
ল্যাপটপ কম্পিউটার৫৭টি
অ্যাপল ট্যাব১টি
প্রিন্টার মেশিন১টি
পেনড্রাইভ৫টি
মোবাইল সিমকার্ড৪টি
পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র৩টি
কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড১টি
মোট উদ্ধারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস১৭০টি
১০অভিযানের স্থান (ভবন ও তলা)৮ তলা ভবন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দেড় মাস ধরে দুবাই প্রবাসীর মালিকাধীন ওই আটতলা ভবনে হঠাৎ করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অস্বাভাবিক আনাগোনা শুরু হয়। তারা নিজেদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে স্থানীয়দের কাছে পরিচয় দিতেন। মূলত এই পরিচয়ের আড়ালেই তারা সাইবার অপরাধের জাল বিস্তার করেছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব, ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করাই ছিল এই চক্রের মূল কাজ। বৈধভাবে কিংবা নানা অজুহাতে বাংলাদেশে প্রবেশের পর অনেকেই পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলতেন এবং স্থানীয় কিছু সহযোগীর সহায়তায় অবৈধ আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যেতেন। এ ঘটনায় খুলশি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার কাজ চলছে।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।