দেশের আলোচিত ও বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরো আলম নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকায় তার স্ত্রী রিয়ামনির দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এর আগে হিরো আলমের স্ত্রী রিয়ামনি রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে হিরো আলম ও আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বিষয়ে জানা যায়, গত বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত বাদীপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের জামিন বাতিলের আদেশ দেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিরা আদালতের দেওয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। নিয়মিত হাজিরা না দেওয়াসহ একাধিক শর্ত লঙ্ঘনের কারণে আদালতে জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি হিরো আলম ও তার স্ত্রী রিয়ামনির মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হিরো আলম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গত ২১ জুন হাতিরঝিল থানাধীন একটি বাসায় বাদীর পরিবারের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই বৈঠকের সময় হিরো আলমসহ ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা বাদীর বর্তমান বাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে রিয়ামনি শারীরিকভাবে আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর গত ২৩ জুন রিয়ামনি হাতিরঝিল থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। অনেকেই বিষয়টিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখলেও, অভিযোগের ধরন গুরুতর হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
হাতিরঝিল থানা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর হিরো আলমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, হিরো আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান, ভিডিও কনটেন্ট ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। তার কর্মকাণ্ড একদিকে যেমন সমালোচিত, অন্যদিকে তার রয়েছে বড় একটি অনুসারী গোষ্ঠী। তবে ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতার কারণে তিনি আগেও আলোচনায় এসেছেন।
