সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চূড়ান্ত হচ্ছে মডেল পিএসসি। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য মডেল পিএসসিতে (উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি) বেশকিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। খসড়া মডেল পিএসসি-২০২৩ অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত উপস্থাপনা দিতে বলেছেন। আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে মডেল পিএসসি-২০২৩ এবং মে মাসের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করে গভীর সমুদ্রে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র।
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চূড়ান্ত হচ্ছে মডেল পিএসসি
সূত্র মতে, পিএসসি সংশোধনীর উপর নির্ভর করছে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ভবিষ্যত। দেশের ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের স্বস্তিকর সমাধান এই বিশাল জলরাশির নিচে লুকায়িত বলে ধারণা করা হয়। সেই বিশাল সমুদ্রসীমা এখনও অধরা পেট্রোবাংলার ঢিলেমির কারণে। ২০২০ সালের নভেম্বরে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মডেল পিএসসি হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ওই সিদ্ধান্ত জানুয়ারিতে (২০২১) প্রেরণ করা হয় পেট্রোবাংলায়। রহস্যজনক কারণে প্রায় ১০ মাস সেই ফাইল চাপা দিয়ে রাখেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) শাহীনুর ইসলাম।
মডেল পিএসসি সংশোধনের সময় একদিকে যেমন ঢিলেমি করা হয়েছে। তেমনি দরদাম ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে। অতীতে পিএসসি তৈরি করার সময় সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হতো, এছাড়া খসড়া পিএসসি উন্মুক্ত করে রাখা হতো জনগণের মতামতের জন্য। কিন্তু এবার কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি খসড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হলেও, কেউই দামের বিষয়ে মুখ খুলছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলা এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ অনেক ছাড় দিয়ে মডেল পিএসসি-২০১৯ (উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি) সংশোধিত করা হচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তোলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়ায় গ্যাসের দর নির্ধারিত করার কথা বলা হয়নি। এটি ব্রেন্ট ক্রডের আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে উঠানামা করবে।
প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ব্রেন্ট ক্রডের ১০ শতাংশ দরের সমান। অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রডের দাম ৮০ ডলার হলে গ্যাসের দাম হবে ৮ ডলার। যা বিদ্যমান পিএসসিতে যথাক্রমে অগভীর ও গভীর সমুদ্রে ৫.৬ ডলার ও ৭.২৫ ডলার স্থির দর ছিল।
দামের পাশাপাশি সরকারের শেয়ারের অনুপাতও নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মডেল পিএসসি-২০১৯ অনুযায়ী গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের অনুপাত বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর কমতে থাকে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার। গভীর সমুদ্রে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে বাংলাদেশের হিস্যা ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত উঠানামা করবে।
মডেল পিএসসি প্রশ্নে গোপনীয়তা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন মডেল পিএসসি-২০০৮ প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক বিইআরসির সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আমরা যখন পিএসসি-২০০৮ প্রণয়ন করি, তখন দেশি বিদেশি কোম্পানি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করেছি, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মতবিনিময় করেছি।
খসড়া চূড়ান্ত করার পুর্বে পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে রেখেছিলাম মতামতের জন্য। অনেকেই মতামত দিয়েছেন, এসব মতামতের মধ্যে গুরুত্বপুর্ণগুলো বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু এবার কেনো লুকোচুরি করা হচ্ছে, কেনো বির্তকের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়।