জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

গৃহপালিত হাঁস নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাগেরহাটে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র বিরোধের জেরে ঘটা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেদার মল্লিক (৬৫) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহপালিত হাঁস কার দখলে থাকবে কিংবা কোথায় যাওয়া নিয়ে বিরোধ—এমন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া কথা কাটাকাটি শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে কাইয়ুম (২৬) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভান্ডারখোলা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক সহিংসতায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিবেশী এক নারীর গৃহপালিত হাঁসকে কেন্দ্র করে বেদার মল্লিকের পরিবারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উভয় পক্ষের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং হাতাহাতি শুরু হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের রমজান, তার স্ত্রী লামিয়া, বাবা ও মা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা এবং ঘরের দরজার ভারী ডাসা নিয়ে বেদার মল্লিক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্মমভাবে চড়াও হন।
হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বেদার মল্লিক। এছাড়া তার স্ত্রী হালিমা বেগম, ছেলে কাইয়ুম এবং পুত্রবধূ সুমি বেগমও বেদম মারধরের শিকার হন। প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় বেদার মল্লিককে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হামলায় আহত কাইয়ুম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং অপর দুই সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
ঘটনার তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, এই ধরনের ছোটখাটো বিষয়ে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি ছিল। একটু সচেতনতা থাকলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ মামুন গণমাধ্যমকে জানান, গৃহপালিত হাঁস নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে গড়ায়। পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত রমজান, তার স্ত্রী লামিয়া এবং তার মাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে এবং পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর