,

গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের অভিযোগ

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত গুরুতর অপরাধের আলামত নষ্ট ও আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে হামাস। ফিলিস্তিনি সংগঠনটি সোমবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করে।

হামাসের দাবি, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনো হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও ব্যাপক প্রাণহানির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বস্তুগত আলামতও যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব স্থানের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা, চূর্ণ করা কিংবা অন্যত্র স্থানান্তরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে হামাস আরও দাবি করে, যুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের সম্ভাব্য আলামত থাকা স্থান, মরদেহ ও অন্যান্য প্রমাণে হস্তক্ষেপ করা হলে ভবিষ্যতের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটির ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলার প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেছে হামাস। তাদের দাবি, আদালত মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপ বা সম্ভাব্য অপরাধস্থল দ্রুত সরিয়ে ফেলার আগে সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা ও নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে হামাস। সংগঠনটির বক্তব্য, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং তাদের মরদেহ উদ্ধার শুধু তদন্তের প্রয়োজনে নয়, পরিবারের সদস্যদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী দাফনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেছে।

এ পরিস্থিতিতে গাজার সম্ভাব্য অপরাধস্থলগুলো সুরক্ষিত রাখতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সেখানে পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান, মৃতদেহ উদ্ধার এবং বসবাসের অনুপযোগী অবকাঠামো পরিষ্কার করা পুনর্গঠনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজের সঙ্গে সম্ভাব্য অপরাধের আলামত সংরক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত থাকায় এ ধরনের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব রয়েছে।

হামাস বলেছে, গাজার ধ্বংসস্তূপ দ্রুত সরিয়ে পুনর্নির্মাণ শুরু করা মানবিক প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংগঠনটি এটিকে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধের সময় কী ঘটেছিল, তার প্রমাণ সংরক্ষণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ সমান্তরালভাবে চালানো জরুরি।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের ফলাফল ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তবে গাজার ধ্বংসস্তূপ, নিখোঁজ মানুষ এবং সম্ভাব্য অপরাধের আলামত সংরক্ষণের বিষয়টি যুদ্ধ-পরবর্তী জবাবদিহি ও পুনর্গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।