মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাজু নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ভুক্তভোগী শিশুর নানির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে হরিরামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলার পরই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রাজু উপজেলার গালা ইউনিয়নের ঝিটকা সোনাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. ফজর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে রাজুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে হরিরামপুর থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুর নানি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, ১১ বছর বয়সী শিশুকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে তার নানি থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয় এবং একই দিন অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার রাজুকে সোমবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।
শিশুকে কেন্দ্র করে যৌন হয়রানি বা শ্লীলতাহানির অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পরিচয় সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও এমন ঘটনা সামনে এনে দেয়।









