ময়মনসিংহে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ তৈরি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল খালেক। তাঁর বয়স ২২ বছর। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা ফয়সাল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৬৪ জন বাড়ি ফিরেছেন। নতুন রোগী ভর্তি ও সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়ার এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে এখনও উল্লেখযোগ্য চাপ রয়েছে।
বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বছরের শুরু থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৮০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গু মূলত এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়া এবং বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পাওয়ার ঘটনা ডেঙ্গুর চলমান চাপের চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় রোগটি নিয়ে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। জমে থাকা পরিষ্কার বা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই বাড়ির আশপাশ, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন স্থাপনা কিংবা যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাতের লক্ষণ বা শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন।
আব্দুল খালেকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছেছে। একই সময়ে ১ হাজার ৮০২ জন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য বলছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ডেঙ্গু এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।









