দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে আরও ৪টি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। নতুন এই চারজনসহ দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া চার শিশুর প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে জটিল উপসর্গ নিয়ে অনেক শিশু ভর্তি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিয়ত চিন্তায় ফেলছে।
মৃত্যুর পাশাপাশি দেশে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরকারি হিসাব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০৭ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর ফলে দেশে এ পর্যন্ত ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৪৯ জনে।
সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও সামগ্রিক চিত্র
ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর বাইরেও বিশাল একটি অংশ মাঠপর্যায়ে হামের লক্ষণ নিয়ে ভুগছে। গত একদিনে দেশে নতুন করে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। এই নতুন আক্রান্তদের যুক্ত করে দেশে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৭ হাজার ৫২২ জনে। চিকিৎসকদের মতে, সন্দেহভাজন রোগীদের একটি বড় অংশই শেষ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সময়মতো শিশুদের টিকা না দেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে এই রোগ দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।









