ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামানের আচরণ ও বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যদের সঙ্গে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অবমাননাকর মন্তব্য শুধু শৃঙ্খলাবিরোধী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ক্যান্টনমেন্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় এলাকা। সেখানে অস্ত্র বহন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর থাকে। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যরা যখন একজন ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ প্রবেশে বাধা দেন, তখন সেটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও দায়িত্বের অংশ। কিন্তু ওই সময় প্রার্থী খালিদুজ্জামান দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন এবং যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয় বা নির্বাচনী প্রার্থী হওয়া কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান দেয় না। ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা বা প্রভাব বিস্তারের স্থান নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি এলাকা। এ ধরনের জায়গায় দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলে তা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও বাহিনীর মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট করে জানায়, তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং একই সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অবমাননাকর আচরণ থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। অন্যথায় তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রাটা (পিএনজি)’ বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হবে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, রাষ্ট্রের আইন, সামরিক বাহিনীর সম্মান ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সাবেক সেনাসদস্যদের এই সংগঠন মনে করে, এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রবণতা বাড়তে পারে।
ঘটনার মূল দিক ও এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের অবস্থান সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলোঃ
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | ক্যান্টনমেন্ট এলাকা |
| অভিযোগ | অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা ও নিরাপত্তা সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ |
| প্রতিবাদকারী সংগঠন | এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন |
| সংগঠনের দাবি | ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা |
| সম্ভাব্য ব্যবস্থা | ক্যান্টনমেন্টে ‘পিএনজি’ ঘোষণা |
সবশেষে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার সবার থাকলেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। আইন ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান ভিত্তি—এই বার্তাই তারা স্পষ্টভাবে দিতে চায়।
