ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন।
সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন মারা গেছেন, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় প্রয়োজন। উদ্ধারকাজ শেষ হলে হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রিসোর্টের ভেতরে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁরা কেন সেখান থেকে চলে গেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নার কাজে ব্যবহৃত আগুন কিংবা অন্য কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে রিসোর্টটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমনপথ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের ইনানী ও আশপাশের সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে ছুটির দিনে এসব এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ে। এ ধরনের পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দ্রুত নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা, কার্যকর সতর্কসংকেত এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর উপস্থিতি প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, মোট ক্ষয়ক্ষতি এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।








