এ এফ এম নুরুল হক হাওলাদার (১০ জানুয়ারি ১৯৩৫–৩১ মে ১৯৭৩) বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন ফরিদপুর-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
এ এফ এম নুরুল হক হাওলাদার | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
এ এফ এম নুরুল-হক হাওলাদার ১০ জানুয়ারি ১৯৩৫ সালে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ডিঙ্গামানিকের সালধ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুন্সী জানে আলম হাওলাদার ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন বৃটিশ সরকারের জেলা জুড়ি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
সালধ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করে পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। এর পর ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ও ১৯৬৫ সালে বাংলা সাহিত্যেও এমএ ও পরবর্তীতে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবন
এ এফ এম নুরুল-হক হাওলাদার ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণআন্দলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সেমিনারে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ২নং সেক্টরে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নড়িয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন তিনি।
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মৃত্যু
এ এফ এম নুরুল-হক হাওলাদার ৩১ মে ১৯৭৩ সালে শরীয়তপুরের নড়িয়ার নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় আঁততায়ীর গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন।
সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ