উত্তরপত্র না দেখানোর কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিনে কেন্দ্রের সামনে উত্তরপত্র দেখানোকে কেন্দ্র করে এক পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বাংলাবাজার ছলেমা নজির উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

আহত পরীক্ষার্থীর নাম কাজী আহমেদ আশ্রাফী নাবিল। তিনি হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মোটবী ইউনিয়নের শিলুয়া গ্রামের কাজী নুরুল আবছার রিপনের ছেলে। ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই উপজেলার গতিয়া আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনের নাম পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার শুরু থেকেই অভিযুক্ত রাকিব নাবিলের পেছনের বেঞ্চে বসত। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সে নাবিলের খাতা দেখে নকল করার চেষ্টা করত। এতে নাবিল আপত্তি জানালে প্রথম দিনই কেন্দ্রের বাইরে তাকে গালাগাল করা হয় বলে জানা যায়।

ঘটনার দিন শেষ পরীক্ষার পর কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বের বিরোধের জেরে নাবিলের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিবসহ আরও ৭-৮ জন যুবক তাকে ঘিরে ফেলে প্রথমে মারধর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত আহত অবস্থায় নাবিলকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাবাজার এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত শিক্ষার্থীর মা নার্গিস আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থেকে যায়। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।