ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে যদি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ না করা হয়, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সেলের মতবিনিময় সভায় ইসি সানাউল্লাহ এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র ও গুলির পরিমাণ কমানো আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতনের ঘটনায় বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, বক্স ও ইউনিটে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল।
নিম্নের টেবিলে এসব লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| শাখা/ইউনিট | লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা | লুট হওয়া গুলির আনুমানিক পরিমাণ | উদ্ধার হয়নি (%) |
|---|---|---|---|
| থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি | ৫,৭৫৩ | ৫০,০০০+ | ১৫% অস্ত্র, ৩০% গুলি |
| অন্যান্য ইউনিট | অজানা | অজানা | – |
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “এই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লক্ষ্য হলো যাতে কোনো দুষ্কৃতিকারী এগুলো ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে।” তিনি রেহিঙ্গা শিবির ও সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা বৃদ্ধিরও নির্দেশ দিয়েছেন। ক্যাম্পগুলো সিল করার পাশাপাশি স্থলসীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে তার প্রভাব পুরো দেশের জন্য নেতিবাচক হবে। সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া শুধু আইন-শৃঙ্খলা ব্যাহত করবে না, বরং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনবিশ্বাসকেও ধ্বংস করতে পারে। এ কারণে ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্টভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও রেলিগিয়াস ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
