প্রেমের পথে ভারত থেকে পাকিস্তান, ইসলাম গ্রহণের পর বিয়ে

ভারতের শিখ ধর্মাবলম্বী নারী সর্বজিৎ কাউর সম্প্রতি তার পছন্দের পাকিস্তানি পুরুষ নাসির হুসাইনের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। বিয়ে করার পর পাকিস্তানে অবস্থানকালে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পাকিস্তান রেঞ্জার্স তাকে ওয়াঘা সীমান্তে নিয়ে যায়, যেখানে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে তাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সর্বজিৎ কাউর গত বছরের ৪ নভেম্বর পাকিস্তানে পৌঁছান। মূলত তিনি শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের ৫৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ১০ দিনের উৎসবে যোগ দিতে দেশটি সফর করেন। তার ভিসার মেয়াদ ছিল ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ভারতে ফেরেননি। পাকিস্তানে অবস্থানকালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নূর ফাতিমা নামে পরিচিত হন। এরপর শেখুপুরার বাসিন্দা নাসির হুসাইনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

সর্বজিত ও হুসাইনের সম্পর্কের সূত্রপাত হয় ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে প্রেমে পরিণত হয়।

সর্বজিতের আইনজীবী, অ্যাডভোকেট আহমেদ হাসান পাশা জিও নিউজকে জানিয়েছেন, তার মক্কেল স্বেচ্ছায় ভারতে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ অনুযায়ী সর্বজিৎ পাকিস্তানে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন না। দেশে ফিরে তিনি স্পাউস ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবার পাকিস্তানে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করবেন।”

পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সূত্র জানায়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং ভারতে ফেরার অনিচ্ছার কারণে তাকে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে স্বদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

বিয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
নারী নামসর্বজিৎ কাউর (নূর ফাতিমা)
বয়স৪৮ বছর
পুরুষ নামনাসির হুসাইন
বিয়ে তারিখ৫ নভেম্বর (গত বছর)
দেনমোহর১০,০০০ রুপি (পরিশোধিত)
ধর্মান্তরশিখ থেকে ইসলাম (স্বেচ্ছায়)
প্রথম পরিচয়২০১৬, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ভিসার মেয়াদ৪ নভেম্বর–১৩ নভেম্বর

সর্বজিৎ কাউর গত নভেম্বরে শেখুপুরার একটি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিয়ের বিষয় নিশ্চিত করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে তিনি জানিয়েছিলেন, কোনো চাপ ছাড়াই স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং হুসাইনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে থাকতে আগ্রহী।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। আইনজীবীর মতে, দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা পুনরায় পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন।