,

ইরানের হামলায় মার্কিন নজরদারি বিমান ধ্বংস

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রশক্তির মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ, যখন সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি মার্কিন বোয়িং ই-৩ সেনট্রি বিমান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই বিমান যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (AWACS) গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আকাশে থাকা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্তকরণ এবং আকাশ অপারেশন সমন্বয় করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হামলায় অন্তত ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। একই ঘটনায় কয়েকটি বিমান জ refueling ট্যাঙ্কারও ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ই-৩ সেনট্রির কৌশলগত গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী বর্তমানে মাত্র ১৬টি ই-৩ সেনট্রি বিমান পরিচালনা করছে। শীতল যুদ্ধের সময় এই ফ্লিটের সংখ্যা প্রায় ৩০টি ছিল। এ বিমানের উন্নত রাডার ও কমান্ড ক্ষমতা কমান্ডারদের শত শত কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আকাশের পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি বোঝার সুবিধা প্রদান করে।

নষ্ট হওয়া একটি ই-৩ প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। আধুনিক সমতুল্য বোয়িং ই-৭ ওয়েজটেল বিমান প্রতি ইউনিটে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ সাপেক্ষে ক্রয় করা হয়। এছাড়া, এই বিমান সীমিত পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে এবং বর্ধিত বাজেট ও ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে তা দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

সৌদিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার সারসংক্ষেপ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সৌদির সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ইরানি হামলা পরিচালিত হয়েছে। নিম্নের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:

তারিখলক্ষ্যস্থানফলাফল
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিবিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে বড় ধরনের ক্ষতি রিপোর্ট করা হয়নি
১ মার্চ ২০২৬প্রিন্স সুলতান ও অন্যান্য ঘাঁটিক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত, এক মার্কিন সেনার মৃত্যু পরবর্তীতে রিপোর্ট করা হয়
৩ মার্চ ২০২৬যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, রিয়াদUAV হামলায় সীমিত ক্ষতি
১২–২৭ মার্চ ২০২৬প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিএকাধিক ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন হামলা; বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস; মার্কিন সেনা আহত
২৭ মার্চ ২০২৬প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিই-৩ সেনট্রি ধ্বংস; ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত; ১২ মার্কিন সৈন্য আহত

এই হামলার ধারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে এবং মিত্রশক্তি ও প্রোক্সি বাহিনীকে সক্রিয় করেছে।

প্রভাব ও সামরিক চ্যালেঞ্জ

একটি কৌশলগত frühen সতর্কতা বিমান ধ্বংস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কোয়ালিশন বাহিনীর নজরদারি ও কমান্ড অপারেশন আরও জটিল হয়ে পড়েছে। সীমিত AWACS ফ্লিট এবং ব্যয়বহুল প্রতিস্থাপন বিমান থাকার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।

নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিক থেকে এই ঘটনা আঞ্চলিক সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

Tags :

ইয়ামান আহমেদ জিম | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।