ময়মনসিংহের ভালুকায় বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বজ্রপাতের সময় মাটির তৈরি ঘরের দেয়াল ধসে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ছিদ্দিক মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধীতপুর গ্রামে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম আয়েশা আক্তার (৪)। সে উপজেলার কাইচান গ্রামের বাসিন্দা ছিদ্দিক মিয়ার মেয়ে। স্বজনেরা জানান, দুই দিন আগে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ধীতপুর গ্রামে শ্বশুর মমতাজ আলীর বাড়িতে বেড়াতে যান ছিদ্দিক মিয়া। রোববার সকালে বাবা-মেয়ে মাটির তৈরি একটি ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে কয়েক দফায় বজ্রপাত হচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত হলে মাটির ঘরটি কেঁপে ওঠে। এর কিছুক্ষণ পর ঘরের একটি দেয়াল হঠাৎ ধসে পড়ে বাবা-মেয়ের ওপর। এতে আয়েশা দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তার বাবা ছিদ্দিক মিয়াও দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাবা-মেয়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে আয়েশাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। আহত ছিদ্দিক মিয়াকে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।
বৃষ্টির সময় মাটির তৈরি পুরোনো বা দুর্বল স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় মাটির দেয়ালের ধারণক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাতের সময় সৃষ্ট তীব্র শব্দ ও কম্পনের প্রভাব কোনো দুর্বল কাঠামোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। ফলে বর্ষাকালে এ ধরনের ঘরের দেয়াল ও ছাদের অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থেকে দূরে থাকা জরুরি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাটির ঘরের দেয়াল ধসে আয়েশা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে এবং তার বাবা ছিদ্দিক মিয়া আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
একদিকে বজ্রপাত, অন্যদিকে দুর্বল মাটির ঘর—দুইয়ের প্রভাবে কয়েক মুহূর্তেই একটি পরিবারের ওপর নেমে আসে শোক। দুর্ঘটনায় শিশুটির মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।










