,

মহাসড়কে ডাকাতি বেড়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি অংশে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিশেষ করে রাত ১০টার পর মহাসড়ক ও এর সঙ্গে যুক্ত সংযোগ সড়কের কিছু নির্জন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন কৌশলে যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের কয়েকটি এলাকায় ডাকাতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ ও গোমতা, চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন অংশের নাম উঠে এসেছে। এসব এলাকায় রাতের বেলায় চলাচলকারী ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস এবং প্রবাসফেরত যাত্রীরা ডাকাতদের অন্যতম লক্ষ্য বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ডাকাতচক্রের সদস্যরা কখনো মহাসড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি, লোহার রড, ইট-পাথর কিংবা অন্যান্য বস্তু ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করে। চালক বাধ্য হয়ে গাড়ি থামালে তারা দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে যাত্রীদের টাকা, মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়িকে অনুসরণ করে অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর লুটপাট করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কের পাশে থাকা নির্জন এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকায় অপরাধীরা সহজেই আড়ালে চলে যেতে পারে। রাতে দূরপাল্লার যানবাহনের সংখ্যা কমে এলে কিছু অংশ আরও ফাঁকা হয়ে পড়ে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সংঘবদ্ধ চক্রগুলো তৎপরতা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রের দাবি, মহাসড়কের বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় ডাকাতচক্রের সদস্যরা বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ময়নামতি ও পদুয়ার বাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক ডাকাত সদস্য বিভিন্ন বাসায় অবস্থান করছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশের টহল বাড়ানো, রাতে বিশেষ নজরদারি চালানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

তাদের মতে, মহাসড়কের অন্ধকার ও নির্জন অংশগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হলে অপরাধীদের চলাচল শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং সড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে ডাকাতির সুযোগ কমানো সম্ভব।

যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাতের যাত্রায় বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের চালকদের অপরিচিত বা নির্জন স্থানে অকারণে থামা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। তাই কোনো একটি অংশে অপরাধের ঘটনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় যাত্রীদের ওপর পড়ে না, পুরো সড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েই উদ্বেগ তৈরি হয়। ডাকাতচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে মহাসড়কে রাতের চলাচল আরও নিরাপদ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।