জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ইরানের দাবি: সৌদি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা সৌদি আরবের জুবাইল শিল্পনগরীর একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি করা হয়েছে ইরানের তিনটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় সম্প্রতি সংঘটিত হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

স্থানীয় সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, হামলার পর কমপ্লেক্সটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফার্স, নূর এবং তাসনিমসহ একাধিক ইরানি গণমাধ্যম আগুনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। তবে বিবিসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুবাইল শিল্পনগরী সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র। এখানে সৌদি আরামকো এবং তার পেট্রোকেমিক্যাল সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাবিক (Saudi Basic Industries Corporation) ছাড়াও পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। এই স্থাপনায় হামলার প্রভাব সামরিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ চেইনে।

এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের শিরাজে অবস্থিত একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করে ইসরায়েল। আইডিএফ জানিয়েছে, ওই কারখানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি হতো। এই পাল্টাপাল্টি হামলা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও তীব্র করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে জুবাইলের পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হলে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

নিচে সাম্প্রতিক হামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—

তারিখস্থানহামলাকারী দাবিলক্ষ্যক্ষতি/প্রতিক্রিয়া
৬ এপ্রিল ২০২৬শিরাজ, ইরানইসরায়েলনাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন কারখানাসামান্য ক্ষতি, নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে
৭ এপ্রিল ২০২৬জুবাইল, সৌদি আরবইরান (আইআরজিসি দাবি)পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সআগুন, বিস্ফোরণ, আনুষ্ঠানিক ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি

উল্লেখযোগ্য, জুবাইল শিল্পনগরী সৌদি আরবের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আইআরজিসির দাবি ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতার মাধ্যমে এই ধরনের হামলার পরবর্তী পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অন্যথায়, সামরিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি নিরীক্ষণ ও কূটনৈতিক আলোচনা আগামী দিনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর