জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪ পিএম

খুলনা মহানগরীর রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মো. রিহাদ হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার খুলনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাজমুস শাহাদাত বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী নজরুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রাজু শেখ ওরফে গাংগুয়া, শামীম ওরফে সবুজ মোড়ল, নুর আলম সিদ্দিক ওরফে কলিন্স ওরফে বাদশা এবং জয়ন্ত। মূল সাজার পাশাপাশি মামলার আরও দুটি আলাদা ধারায় তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিচারক। মামলার অপর আসামি আবুল কালাম আজাদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কেবল নুর আলম সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন; বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সোহাগ তালুকদার, শামীম হোসেন ও শহিদুর রহমান ওরফে শাওনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাবা শেখ জলিলের ইজিবাইক নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বের হয় শিশু রিহাদ। পথিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ইজিবাইকটি ভাড়া করে তাকে অজানা স্থানে নিয়ে যায়। ওই রাতে রিহাদ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে গ্যারেজ মালিককে ফোন করে বাড়ি ফিরতে দেরি হবে বলে জানিয়েছিল। তবে এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও রিহাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে নগরীর আড়ংঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর ৯ ডিসেম্বর বিকেলে পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার পঞ্চু খাল থেকে একটি অজ্ঞাত পরিচয় কিশোরের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় খবর দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে গলার ক্ষতচিহ্ন দেখে রিহাদের লাশ শনাক্ত করেন স্বজনেরা। ইজিবাইকটি ছিনতাই করতেই তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহত রিহাদের চাচা শেখ জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করেন।
মন্তব্য