জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার জোরালো হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই হামলার জন্য ইরানকে চরম মূল্য চোকাতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্ত হাতে এর পাল্টা জবাব দেবে।
মার্কিন সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটির দিকে ছোঁড়া ইরানের সমস্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। এই হামলাকে সম্পূর্ণ আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উপস্থিতির বার্তা পাওয়ার পর জর্ডানের ঘাঁটিতে থাকা সেনাসদস্যদের প্রস্তুত হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় পাওয়া গিয়েছিল। তবে রিয়েল-টাইমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ দ্রুত শনাক্ত করে তা সঙ্গে সঙ্গে ভূপাতিত করা হয়, ফলে ঘাঁটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিজ ভূখণ্ড থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাশিবির লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেন্টকমের বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ না করা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরাক ও সৌদি আরবের সহায়তায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চালানো যৌথ সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখেই ওইসব অভিযান চালানো হয়েছে। ইরান-সমর্থিত এসব সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির ও নিরাপত্তার জন্য ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর থেকে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
একদিকে হামলার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিলেও, ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে সামরিক উত্তেজনার মাঝেও ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। ওয়াশিংটনের অভিজ্ঞ আলোচক দল তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রেখেছে এবং সংকট সমাধানে যেকোনো গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
মন্তব্য