ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও তাঁর ক্লাব আল নাসরের সম্পর্ক কি তবে নতুন করে টানাপোড়েনে পড়েছে? সাম্প্রতিক গুঞ্জন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনই ইঙ্গিত মিলছে। সৌদি প্রো লিগে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে আল রিয়াদের মুখোমুখি হওয়ার কথা আল নাসরের। এই ম্যাচে মাঠে নামার পরিকল্পনা নেই পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদোর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর অসন্তোষ ও প্রতিবাদ?
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, আগামী শুক্রবার চ্যাম্পিয়ন ইতিহাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে রিয়াদের বিপক্ষে রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। বয়স ৩৯ হওয়ায় তাঁর ম্যাচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরে জানা যায়, বিষয়টি কেবল শারীরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আল নাসরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে ‘আ বোলা’ জানিয়েছে, রোনালদোর না খেলার সিদ্ধান্তের মূল কারণ ক্ষোভ ও হতাশা।
এই ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। পিআইএফ সৌদি আরবের শীর্ষ চারটি ক্লাব—আল নাসর, আল হিলাল, আল ইতিহাদ ও আল আহলি—নিয়ন্ত্রণ করে। রোনালদোর অভিযোগ, এই তহবিল আল নাসরের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে দলবদলের বাজারে বিনিয়োগ ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে এই বৈষম্য স্পষ্ট।
দলের অধিনায়ক হিসেবে রোনালদো দীর্ঘদিন ধরেই আল নাসরের স্কোয়াড শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আসছেন। অথচ চলতি শীতকালীন দলবদলের বাজারে ক্লাবটি দলে ভিড়িয়েছে মাত্র একজন খেলোয়াড়—ইরাকের ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হায়দার আবদুল করিম। বিপরীতে আল হিলাল একের পর এক বড় নাম দলে টানছে, যা রোনালদোর অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে আল নাসরের প্রশাসনিক কাঠামোয়ও বড় পরিবর্তন এসেছে। স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনিও ও সিইও জোসে সেমেদো—এই দুই পর্তুগিজ কর্মকর্তার ক্ষমতা চলতি মাসের শুরু থেকে কার্যত খর্ব করা হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে রোনালদো ক্ষুব্ধ, কারণ তাঁর মতে এতে ক্লাবের ক্রীড়া পরিকল্পনায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
নিচের টেবিলে শীতকালীন দলবদলের বাজারে আল নাসর ও আল হিলালের কার্যক্রমের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ক্লাব | উল্লেখযোগ্য নতুন খেলোয়াড় | আনুমানিক ব্যয় |
|---|---|---|
| আল নাসর | হায়দার আবদুল করিম (মিডফিল্ডার) | সীমিত |
| আল হিলাল | পাবলো মারি, কাদের মেইতা, সাইমন বুয়াব্রে | প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো |
এ পরিস্থিতির মধ্যেই করিম বেনজেমার সম্ভাব্য আল হিলাল যোগদানের গুঞ্জন রোনালদোর বিরক্তি আরও বাড়িয়েছে। তাছাড়া ইতালিয়ান কোচ সিমোন ইনজাগির নেতৃত্বে আল হিলালের উচ্চাভিলাষী দল গঠনের খবর আল নাসরের অন্দরমহলে চাপ সৃষ্টি করছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি আল নাসরের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রথম ঘটনা নয়। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে কোচ জর্জ জেসুস প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে, “আল নাসরের রাজনৈতিক প্রভাব আল হিলালের মতো শক্তিশালী নয়।” এই বক্তব্য সৌদি ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় এবং এর জেরে আল হিলাল কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে।
সব মিলিয়ে রোনালদোর সম্ভাব্য ম্যাচ বয়কট কেবল একটি ম্যাচ ঘিরে সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি আল নাসরের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ নীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে জমে ওঠা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
