আমজাদ হোসেন সরকার বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ আংশিক) আসনে চারদলীয় ঐক্যজোট থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
Table of Contents
আমজাদ হোসেন সরকার | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
আমজাদ হোসেন সরকার ১৯৫৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
আমজাদ হোসেন সরকার তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। একবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, চারবার সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আমজাদ হোসেন সরকার ও সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরে আমজাদ হোসেন সরকারকে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তার প্রার্থিতা স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন ক্রয় করলেও দলীয়ভাবে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, পরবর্তীতে তিনি সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নাম লিখিয়েছিলেন।
ডায়াবেটিকস ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন আমজাদ হোসেন সরকার। সেখানে তৃতীয় দফায় তাঁর করোনা পজিটিভ আসে। ১৪ জানুয়ারি ২০২১ সালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ