আবদুস সাত্তার আকন বাগেরহাট জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য। তিনি বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকা থেকে দুইবার (১৯৯১ ও ২০০১) জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
Table of Contents
আব্দুস সাত্তার আকন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও শিক্ষা জীবন
আবদুল সাত্তার আকন ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের চালিতাবুনিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত আকন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আলিমুদ্দিন আকন। তিনি মোড়েলগঞ্জের আমতলী মাদরাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এর পর লক্ষ্মীপুর জেলার টুমচর মাদরাসায় লেখাপড়া করে ছারছিনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
আবদুস সাত্তার আকন বাগেরহাট আলিয়া মাদরাসা, খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসা ও চুয়াডাঙ্গা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালে বৃহত্তর বরিশাল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন। ১৯৭০ সালে বৃহত্তর খুলনার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। বাগেরহাট জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে-ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ আসন (মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা) বাংলাদেশ জামায়াতে-ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ-জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে চারদলীয় জোট থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মৃত্যু
আবদুল সাত্তার আকন ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে একাধিক জানাজা শেষে জন্মস্থানের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আকনের ৩ ছেলে ও ৭ মেয়ে রয়েছে।
সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ