আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর আশা, শুষ্ক উইকেট ও গরম আবহাওয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে শুরুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করতে পারবে তাঁর দল। ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে উইকেটে স্পিন বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রহমত শাহ। ফলে দুই দলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনার পাশাপাশি আফগানিস্তানের নতুন টেস্ট অধিনায়কের নেতৃত্বও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
টসের পর আগে বোলিং করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘উইকেট বেশ শুকনো দেখাচ্ছে। এখানকার আবহাওয়া বেশ গরম। আমার মনে হয়, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা ব্যাটারদের জন্য একটু কঠিন হবে।’
বাংলাদেশ অধিনায়কের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটের গতি কমে যেতে পারে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে বল ঘুরতে শুরু করলে ব্যাটারদের জন্য রান তোলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রথম ইনিংসেই আফগানিস্তানকে চাপে রাখতে পারলে ম্যাচের পরবর্তী পর্যায়ে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে।
তবে শুষ্ক উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে হলে বোলারদের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করাও গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান যদি শুরুতে উইকেট ধরে রেখে বড় জুটি গড়ে তুলতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী শান্ত। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেললেও দলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি। প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ থাকে, আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচটিকেও সেই দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই, আমার মনে হয় আমরা বেশ ভালো ক্রিকেট খেলছি। তবে দল হিসেবে আমাদের যথেষ্ট ধারাবাহিক হতে হবে। নিজেদের দক্ষতা দেখানোর আরেকটি সুযোগ এটি। আমি আশা করি, ছেলেরা গত কয়েক দিন ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা এখানে ভালো ক্রিকেট খেলব।’
আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ নিয়েও সতর্ক বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ দলে বেশ কয়েকজন মানসম্পন্ন স্পিনার থাকায় ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শান্ত জানিয়েছেন, দেশে যেভাবে অনুশীলন করা হয়, এখানেও একই ধারায় প্রস্তুতি নিয়েছে দল। পাশাপাশি নিজেদের স্পিনারদের সামর্থ্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী তিনি।
আফগানিস্তানের স্পিনারদের মোকাবিলা প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘তারা খুব ভালো দল, এটা আমরা সবাই জানি। তাদের কিছু মানসম্পন্ন স্পিনারও আছে। তাই দেশে যেভাবে অনুশীলন করি, এখানেও একইভাবে করেছি। আমাদেরও কিছু মানসম্পন্ন স্পিনার আছে। প্রস্তুতি নিয়ে আমরা বেশ খুশি। আশা করি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলব।’
বোলিং সমন্বয়েও স্পিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। শান্ত জানিয়েছেন, এই ম্যাচে তিনজন স্পিনার ও দুজন পেসার নিয়ে খেলছে দল। শুষ্ক উইকেটে এই সমন্বয় কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পেসাররা নতুন বলে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টা করবেন, আর ম্যাচ এগিয়ে গেলে স্পিনারদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। একটি ভালো জুটি যেমন দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে, তেমনি অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি উইকেট হারালে তৈরি হতে পারে বড় চাপ। তাই বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যাটারদেরও পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলতে হবে।
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া রহমত শাহের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে দলের ব্যাটিং সামলানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে উইকেটে স্পিন বাড়তে শুরু করলে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা কীভাবে নিজেদের মানিয়ে নেন, তা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ পেয়েছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বোলারদের শৃঙ্খলাপূর্ণ পারফরম্যান্স, ফিল্ডারদের সতর্কতা এবং পুরো দলের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। উইকেটের আচরণ শেষ পর্যন্ত শান্তর ধারণার সঙ্গে কতটা মেলে, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত বাংলাদেশের লক্ষ্য, প্রথম ইনিংস থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।









