খুলনা মহানগরীতে ছিনতাইকারীদের হামলায় শাহ আলম (৪৩) নামে পুলিশের এক পরিদর্শক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে নগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। তিন ব্যক্তি তাঁর রিকশার গতিরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজির ওপর আঘাত করে পালিয়ে যায়।
আহত শাহ আলম খুলনা জেলা পুলিশের এ-সার্কেল অফিসে কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক। তিনি মশিয়ার রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, রূপসা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান শেষে তিনি রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর রিকশার গতিরোধ করে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজির ওপর আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে পুলিশ।
খবর পেয়ে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এবং সোনাডাঙ্গা থানার একটি মোবাইল টিমের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
শুক্রবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে শাহ আলমকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়। তাঁর দুই হাতের আঘাত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে পুলিশের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের গ্রেপ্তার কিংবা ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাতের শেষভাগে নগরীর প্রধান সড়কে এ ধরনের হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। রাতে যাতায়াতকারী ব্যক্তি, কর্মজীবী মানুষ এবং দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে নজরদারি ও অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা, তাঁদের আইনের আওতায় আনা এবং ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। আহত পুলিশ কর্মকর্তার চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর থাকবে।









