চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক তরুণ গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সকাল বেলা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর নাম হালিমা আক্তার (২১)। তিনি রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার মিজানুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দেড় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই হালিমা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ দেখা দিত। বিষয়টি একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। গত শনিবার রাতেও তাঁদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে। পরদিন সকালে ঘরের ভেতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের বড় ভাই নঈম উদ্দিন বলেন, ভোরে স্বামী ফোন করে আত্মহত্যার খবর দেয়। পরে তারা ঘটনাস্থলে এসে দেখে, মরদেহ ঘরের ছাদের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে এবং পা মাটিতে স্পর্শ করছিল, যা স্বাভাবিক ঝুলন্ত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের দাবি, হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে স্বামীপক্ষের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিচে ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা তুলে ধরা হলো—
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর | হালিমা ও মিজানুরের বিয়ে |
| গত কয়েক মাস | দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক সালিস |
| শনিবার রাত | স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া |
| রোববার সকাল | মরদেহ উদ্ধার |
| রোববার দুপুর | ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রেরণ |
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রতিটি দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, পরিবারের অভিযোগ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন—সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।
এদিকে এলাকায় এ ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
