থালাপতি বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান: অভিনেত্রী তৃষার উপস্থিতি ও জনমনে কৌতূহল

তামিলনাড়ুর রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থালাপতি বিজয়। আজ সকালে আয়োজিত এই জমকালো শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিজয়ের জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে তৃষার উপস্থিতি দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চলমান গুঞ্জনকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

শপথ অনুষ্ঠানে তৃষার সাজ ও উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তৃষা কৃষ্ণান বেছে নিয়েছিলেন একটি মার্জিত ও ঐতিহ্যবাহী সাজ। তিনি সি-ফোম নীল ও সোনালি রঙের কারুকাজ করা শাড়ি পরিধান করেছিলেন, যার সাথে ছিল ক্রিম রঙের ব্লাউজ। তাঁর সাজসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছাপ:

  • অলঙ্কার: কানে ও গলায় লাল রুবি পাথরের গয়না।

  • কেশসজ্জা: খোঁপায় জড়ানো ছিল সাদা ফুলের গাজরা।

  • মেকআপ: হালকা মেকআপের সাথে আইলাইনার, কাজল এবং কপালে একটি ছোট টিপ তাঁর উপস্থিতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা দিনটির গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্তব্য করলে তৃষা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সাড়া দেন। এক সংবাদকর্মী যখন দিনটিকে তামিলনাড়ুর জন্য একটি ‘বড় দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন, তখন তৃষা হাসিমুখে সম্মতি জানিয়ে বলেন, “হ্যাঁ, ধন্যবাদ। আমি এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষায় আছি।” অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে সহযাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা উমা কৃষ্ণান। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁদের।

বিজয় ও তৃষার পেশাদার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

বিজয় এবং তৃষা দীর্ঘ দুই দশক ধরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে অত্যন্ত সফল জুটি হিসেবে পরিচিত। তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকদের কাছে বরাবরই প্রশংসিত। নিচে তাঁদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমার তালিকা দেওয়া হলো:

চলচ্চিত্রের নামমুক্তির বছরপরিচালকফলাফল
ঘিল্লি (Ghilli)২০০৪ধরনীব্লকবাস্টার হিট
থিরুপাচি (Thirupaachi)২০০৫পেরারাসুসুপারহিট
আথি (Aathi)২০০৬রমনাবাণিজ্যিক সাফল্য
কুরুভি (Kuruvi)২০০৮ধরনীআলোচিত
লিও (Leo)২০২৩লোকেশ কানাগরাজবিশ্বব্যাপী সাফল্য

গুঞ্জন ও সাম্প্রতিক বিতর্ক

চলতি বছরের শুরু থেকেই এই দুই তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যখন বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছেদের খবর সংবাদমাধ্যমে আসে, তখন থেকেই তৃষার সাথে তাঁর বন্ধুত্বের বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বিজয়ের স্ত্রী সংগীতার সাথে তাঁর দূরত্ব তৈরি হওয়ার পেছনে এই ঘনিষ্ঠতা একটি কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, বিজয় এবং সংগীতা দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের বিচ্ছেদের আবেদন সংক্রান্ত খবরগুলো ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত বিজয়, সংগীতা বা তৃষার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। আজকের এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত না থেকে তৃষার সাথে ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি সাধারণ মানুষ ও অনুরাগী মহলে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব বিষয় কেবলই জনশ্রুতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।