৫০ দিনের সংঘাতে বিশ্ব কীভাবে ৫০ বিলিয়ন ডলারের তেল হারাল

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাবে, মাত্র পঞ্চাশ দিনের এই সংঘাতের কারণে বিশ্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়ে, যার আর্থিক মূল্য পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন সময়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং সংশ্লিষ্ট তরল পদার্থ উৎপাদিত হয়নি, তার বাজারমূল্য হিসাব করেই এই বিপুল ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি সরাসরি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফল হিসেবে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি।

বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট তরল পদার্থের সরবরাহে প্রায় পঞ্চাশ কোটি ব্যারেল ঘাটতি দেখা দেয়। এই বিশাল ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে এবং জ্বালানি প্রবাহে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।

সংঘাতের সূচনা ঘটে আটাশ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চৌদ্দ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে অগ্রসর হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক ইতিহাসে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন বড় আকারের বিঘ্ন বিরল। একসঙ্গে এত বড় পরিমাণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

নিচের সারণিতে মূল তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
সংঘাতের সময়কালপঞ্চাশ দিন
সংঘাত শুরুর তারিখআটাশ ফেব্রুয়ারি
যুদ্ধবিরতির সময়কালচৌদ্দ দিন
উৎপাদন ঘাটতিপ্রায় পঞ্চাশ কোটি ব্যারেল
আর্থিক ক্ষতির পরিমাণপাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব আগামী কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনুভূত হতে পারে। উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়, যা বিভিন্ন দেশের জ্বালানি আমদানি ও মূল্য নির্ধারণে চাপ সৃষ্টি করে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সংকট শুধু তেলের বাজারেই নয়, বরং পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রতিফলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।