খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই মে ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬ আসরে চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। গত শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে স্বাগতিক কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক অবিস্মরণীয় নজির স্থাপিত হয়েছে। এই হাই-স্কোরিং ম্যাচে কোনো ব্যাটসম্যান শতক বা সেঞ্চুরি করতে না পারলেও দুই দলের ব্যাটসম্যানরা মিলে মোট ৬টি অর্ধশতক বা হাফসেঞ্চুরির ইনিংস উপহার দেন। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এক ম্যাচে ৬টি অর্ধশতক হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। ব্যাট-বলের এই চিত্তাকর্ষক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্স ২৯ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের উদ্বোধনী ও মধ্যম সারির ব্যাটসম্যানরা গুজরাটের বোলারদের ওপর চড়াও হন। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের এক বিশাল পর্বতসম পুঁজি খাড়া করে। এটি আহমেদাবাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল গুজরাটের বিরুদ্ধে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের নতুন রেকর্ড। কলকাতার হয়ে ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৫ বলে ৯৩ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন। এছাড়া দ্বিতীয় উইকেটে অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ১০৮ রানের একটি চমৎকার অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। রঘুবংশী ৪৪ বলে ৮২ রান এবং গ্রিন ২৮ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই ইনিংসে কলকাতার ব্যাটসম্যানরা যৌথভাবে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২টি ছক্কা হাঁকান।
২৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে গুজরাট টাইটান্সও চমৎকার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে শেষ মুহূর্তের গতি ধরে রাখতে না পারায় নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানে তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। গুজরাটের পক্ষে অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৯ বলে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন। এছাড়া জস বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ রান এবং সাই সুদর্শন ২৮ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। কলকাতার বোলার সুনিল নারিন জোড়া উইকেট শিকার করে গুজরাটের রানের গতিতে লাগাম টানেন।
কলকাতা ও গুজরাটের এই ম্যাচে যেসব অনন্য দলীয় ও ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ হয়েছে, তা নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | রেকর্ডের ক্ষেত্র | অর্জিত সাফল্য ও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার | পূর্ববর্তী পরিসংখ্যান ও অন্যান্য বিবরণ |
| ১ | এক ম্যাচে সর্বোচ্চ হাফসেঞ্চুরি | ৬টি (অ্যালেন, রঘুবংশী, গ্রিন, গিল, বাটলার ও সুদর্শন) | টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে এটি এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। |
| ২ | দ্রুততম ৩০০০ রান (টি-টোয়েন্টি) | সাই সুদর্শন (৭৮টি ইনিংসে মাইলফলক স্পর্শ) | শন মার্শ (৮৫ ইনিংস) ও ক্রিস গেইল (৮৭ ইনিংস)। |
| ৩ | অধিনায়ক হিসেবে ৫০০+ রান | শুভমান গিল (টানা দুই মৌসুমে এই কীর্তি) | শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিও ২ বার করেছেন। |
| ৪ | এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচ মিস | গুজরাট টাইটান্স (এক ইনিংসে মোট ৪টি ক্যাচ হাতছাড়া) | আইপিএলের ইতিহাসে আরও ৭টি ম্যাচে এই রেকর্ড রয়েছে। |
| ৫ | রশিদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং | রশিদ খান (৪ ওভারে ০ উইকেট দিয়ে ৫৭ রান প্রদান) | রশিদ খানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রান ৫৯। |
| ৬ | এক আসরে দলীয় ২০০+ রান | ৬০তম ম্যাচ শেষে চলতি আসরে মোট ৫২ বার দুইশত রান | ২০২৫ আসরের সর্বোচ্চ ৫২ বারের রেকর্ড স্পর্শ (১৪ ম্যাচ বাকি)। |
এই ম্যাচটি গুজরাট টাইটান্সের বিশ্বখ্যাত আফগান স্পিনার রশিদ খানের জন্য ছিল বেশ বিব্রতকর। তিনি নিজের কোটার ৪ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট লাভ করতে পারেননি, উল্টো ৫৭ রান খরচ করেন। এটি আইপিএলের ইতিহাসে তাঁর সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিংয়ের রেকর্ড। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তিনি সর্বোচ্চ ৫৯ রান দিয়েছিলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে বোলিং ছিল।
অন্যদিকে, গুজরাটের তরুণ ব্যাটিং প্রতিভা সাই সুদর্শন এই ম্যাচে ৫৩ রান করার পথে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ইনিংস খেলে ৩ হাজার রান পূর্ণ করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তিনি মাত্র ৭৮টি ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়ে শন মার্শের ৮৫ ইনিংসের পূর্বতন রেকর্ডটি ভেঙে দেন। এই তালিকায় ডেভন কনওয়ে ও ডি’আরকি শর্ট ৮৬ ইনিংসে এবং ক্রিস গেইল ৮৭ ইনিংসে ৩ হাজার রান করেছিলেন।
পাশাপাশি, গুজরাটের অধিনায়ক শুভমান গিল আইপিএলের টানা দুই আসরে ৫০০-এর বেশি রান করার গৌরব অর্জন করেন। অধিনায়ক হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিও দুবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে এই তালিকায় ৩ বার করে ৫০০-এর বেশি রান নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও লোকেশ রাহুল। ফিল্ডিংয়ে গুজরাট ৪টি ক্যাচ মিস করে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচ ছাড়ার যৌথ রেকর্ডে নাম লেখায়।
মন্তব্য