হামলার ঘটনার পর মুক্তিভবন ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন অভিযোগ করেন, একদল যুবক অতর্কিতে তাঁদের কার্যালয় মুক্তিভবনে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার জন্য তিনি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। তবে হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
সিপিবির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক এবং পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। দীপক শীলকে ছেড়ে দেওয়ার পর স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, সিপিবির নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন। তবে সাজ্জাদ জহির চন্দন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের কার্যালয় থেকে এ ধরনের কোনো স্লোগান দেওয়া হয়নি। ফলে স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের যে কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁর সমর্থকেরা উল্লাস প্রকাশ করতে করতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সিপিবির কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপির নেতাকর্মী বলে সিপিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা পল্টনে এ ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট এলাকার জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের ওপরও পড়তে পারে। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। সিপিবির অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীদের অস্বীকৃতি এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে কোনটি তদন্তে সমর্থন পায়, তা পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তবে হামলায় কতজন অংশ নিয়েছেন, কেউ আহত হয়েছেন কি না কিংবা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।








