ছাত্রীর খাতায় ফোন নম্বর লেখায় অধ্যক্ষের বকা, দুঃখে মদ্যপান করে স্কুলে ঘুমিয়ে পড়লেন শিক্ষক

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বাড়মেরে অবস্থিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) এক চরম অনভিপ্রেত ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন এক তরুণ শিক্ষকের অপেশাদার আচরণ এবং পরবর্তীতে মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে পড়ে থাকার ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় নৈতিকতা ও শিক্ষকতার আদর্শ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিচিত্র অজুহাত

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই তরুণ শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন এক ছাত্রীর খাতার পেছনের পাতায় নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর লিখে দেন। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ওই ছাত্রী স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষকে অবহিত করে। অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষককে ডেকে পাঠান এবং জনসমক্ষে তাকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক অবশ্য এই কাজের পেছনে এক অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তার দাবি, তিনি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়িভাড়া খুঁজছিলেন এবং সেই ছাত্রীর পরিবারের কেউ তাকে সাহায্য করতে পারবে ভেবেই তিনি খাতায় নম্বরটি লিখেছিলেন। তবে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর ব্যক্তিগত শিক্ষা উপকরণে এভাবে নম্বর লেখা শিক্ষাসুলভ আচরণ নয় বলে সাফ জানিয়ে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মদ্যপান ও স্কুলে অবস্থান

অধ্যক্ষের কড়া ধমক শোনার পর ওই শিক্ষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠরা। তবে এই ‘মন খারাপ’ কাটাতে তিনি যা করেছেন, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, স্কুল ছুটির পর ওই শিক্ষক অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি বাড়ি না ফিরে পুনরায় স্কুল প্রাঙ্গণে ফিরে আসেন।

বিকেলে স্কুলের মাঠে স্থানীয় কিশোররা খেলাধুলা করার সময় লক্ষ্য করে যে, স্কুলের বারান্দায় একজন ব্যক্তি অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে তারা চিনতে পারে যে এটি তাদেরই শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা তৎক্ষণাৎ গ্রামবাসী ও স্কুলের অন্য কর্মীদের খবর দেয়। স্থানীয়রা এসে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও তার জ্ঞান না ফেরায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।


ঘটনার সংক্ষিপ্ত কালানুক্রম ও তথ্যচিত্র

ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে নিচের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ফুটে ওঠে:

সময়কালঘটনার বিবরণফলাফল
সকাল ১১:০০ (আনুমানিক)ছাত্রীর খাতার পেছনে মোবাইল নম্বর প্রদান।অধ্যক্ষ কর্তৃক কড়া তিরস্কার।
দুপুর ২:৩০ (ছুটির পর)শিক্ষকের অতিরিক্ত মদ্যপান।শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা।
বিকেল ৪:০০মদ্যপ অবস্থায় স্কুলের বারান্দায় অচৈতন্য।শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক।
পরবর্তী পদক্ষেপহাসপাতালে ভর্তি ও বিভাগীয় তদন্ত।শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত।

অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

স্কুলের অধ্যক্ষ এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্কুলে বর্তমানে কিছু নির্মাণকাজ চলায় সদর দরজাটি ছুটির পরেও খোলা ছিল। সেই সুযোগেই মদ্যপ অবস্থায় ওই শিক্ষক ভেতরে ঢুকে বারান্দায় শুয়ে পড়েন।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে সমাজ গঠনমূলক আচরণ প্রত্যাশিত, কিন্তু তার এই কাণ্ড কেবল স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।” ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও জেলা শিক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

রাজস্থানের এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অধিকাংশ নেটিজেন বলছেন, বাড়িভাড়ার অজুহাত দিয়ে ছাত্রীর খাতায় নম্বর লেখা একটি পরিকল্পিত অপরাধের অংশ হতে পারে। বর্তমানে পুলিশ ও শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে ওই শিক্ষক এর আগেও এমন কোনো অনৈতিক কাজ করেছেন কি না।