ওয়াদুদ হত্যা: মাঞ্জিলের তৃতীয় রিমান্ড

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার আসামিকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা মামলার তদন্তে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ পর্যন্ত তিন দফায় মাঞ্জিল হায়দারের বিরুদ্ধে মোট ১২ দিনের রিমান্ড অনুমোদিত হয়েছে। প্রথম দফায় ১০ এপ্রিল চার দিনের রিমান্ড, দ্বিতীয় দফায় ১৩ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় আরও পাঁচ দিন যুক্ত হয়েছে।

নিচে রিমান্ড সংক্রান্ত তথ্য সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

দফা | তারিখ | মঞ্জুরকৃত রিমান্ড
প্রথম | ১০ এপ্রিল | ৪ দিন
দ্বিতীয় | ১৩ এপ্রিল | ৩ দিন
তৃতীয় | ১৬ এপ্রিল | ৫ দিন
মোট | — | ১২ দিন

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী পূর্বে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় দায়িত্ব পালন করতেন। গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একজন প্রশিক্ষিত সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেট এলাকায় চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের শ্যালক আবদুর রহমান বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মাঞ্জিল হায়দার তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু তথ্য স্বীকার করলেও সংশ্লিষ্ট সহযোগী ও ঘটনার নেপথ্যের সংগঠকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনায় সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা, অর্থায়নের উৎস, অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন এখনো বাকি রয়েছে। তদন্ত সংস্থা মনে করছে, আসামিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা গেলে মামলার অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে।