বেশ কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর সীমান্ত সংঘর্ষে উত্তপ্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বুধবার রাতে ৪৮ ঘণ্টার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে পাকিস্তানি সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে।
উভয় দেশ জানিয়েছে, উত্তেজনা কমাতে তারা পরস্পরকে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তারা গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করবে।
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আফগান বাহিনীকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে, তবে পাকিস্তান তা লঙ্ঘন করলে তার জবাব দেওয়া হবে।
এই যুদ্ধবিরতি আসে এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর। সীমান্তে তালেবানদের হামলার জবাবে পাকিস্তান কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দেয়। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও কাবুল তা অস্বীকার করেছে।
বুধবার কাবুলে দুটি বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়। তালেবান জানায়, একটি তেল ট্যাংকার ও জেনারেটর বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে সেটি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের অংশ কি না তা নিশ্চিত করেনি।
স্পিন বোলদাক সীমান্তে সংঘর্ষে তালেবান জানায়, ১৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ২–৩ জন যোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তান দাবি করেছে, তালেবানের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং বিপরীতপক্ষের প্রায় ২০ যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
কান্দাহার ও চামান সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে।
পেশোয়ারে একটি চেকপয়েন্টে হামলায় সাত পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী নিহত হন। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন নামের একটি গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তালেবান বলছে, কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলার প্রতিশোধে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। রোববার সীমান্তে সংবাদ কভার করতে গিয়ে আফগান সাংবাদিক আব্দুল গফুর আবিদ পাকিস্তানের গুলিতে নিহত হন বলে দাবি করেছে তালেবান।
