পশ্চিমা দেশগুলোর পুনর্বহাল করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পর জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ-এর সঙ্গে সহযোগিতা আর প্রাসঙ্গিক নয় বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
রোববার (৬ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেন, “কায়রোতে আইএইএর সঙ্গে স্বাক্ষরিত আমাদের চুক্তি এখন আর কার্যকর নয়।”
গত মাসে মিশরের রাজধানী কায়রোতে ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
আরাঘচি বলেন, “ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও তারা ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। এর ফলে কায়রো চুক্তি অর্থহীন হয়ে গেছে। তারা ভেবেছিল, হুমকি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে নত করা যাবে, কিন্তু আসলে নিজেদের কূটনৈতিক প্রভাবই হারিয়েছে।”
পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরান বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ নাগরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত, এবং তারা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রাখে।
প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘোষণার তারিখ | ৬ অক্টোবর ২০২৫ |
| ঘোষণাকারী | ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি |
| চুক্তির নাম | কায়রো চুক্তি (ইরান–আইএইএ) |
| চুক্তির উদ্দেশ্য | ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি |
| বিতর্কের কারণ | পশ্চিমা দেশগুলোর পুনর্বহালকৃত জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা |
| ইরানের অবস্থান | আইএইএর সহযোগিতা আর প্রাসঙ্গিক নয় |
| পশ্চিমাদের অভিযোগ | ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে |
| ইরানের জবাব | কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নাগরিক উদ্দেশ্যনির্ভর |
ইরানের এই ঘোষণা পশ্চিমা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষত, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
