তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো। এই পরাজয়ের পর দলের লেজ বা টেলএন্ডার ব্যাটারদের ব্যাটিং দক্ষতা নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি বিশেষ করে রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদদের আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের অভাবকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।
Table of Contents
মিরপুরের ব্যাটিং বিপর্যয় ও পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ দল বৃষ্টির কারণে বারবার বাধার মুখে পড়ে। দফায় দফায় বৃষ্টি নামায় আম্পায়াররা ম্যাচের দৈর্ঘ্য ১৫ ওভারে কমিয়ে আনেন। তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়েও বাংলাদেশ দল অলআউট হয়ে যায় ৪ বল বাকি থাকতেই। মাত্র ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
ইনিংসের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ; মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট এবং ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে উদ্ধারে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ২২ বলে ২৮ রানের একটি ছোট জুটি গড়েন। তবে মধ্যম সারির ব্যর্থতায় শেষ দিকে মাত্র ৩৯ রানের ব্যবধানে ৭টি উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায়। শামীম পাটোয়ারী ৩ রান করে আউট হন এবং ৮ নম্বরে নামা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রথম বলেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। সাত নম্বরে নামা শেখ মেহেদী ৬ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকলেও তা স্কোরবোর্ডে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।
সতীর্থদের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে অধিনায়কের প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চাহিদা তুলে ধরে বলেন, কেবল বোলার হিসেবে দলে টিকে থাকা এখন কঠিন। তিনি স্পিনারদের ব্যাটিংয়ে আরও বেশি কার্যকর হওয়ার আহ্বান জানান।
লিটন উল্লেখ করেন, “বিশ্বজুড়ে যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, তারা প্রায় প্রতিটি দলেই ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে পারে। শেখ মেহেদী ব্যাটিং জানেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই পারফরম্যান্সটা আমাদের খুব প্রয়োজন। রিশাদ এবং নাসুমের ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা থাকে।”
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রিশাদ হোসেন ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যথাক্রমে ৫৩ ও ৪৮* রানের দুটি ইনিংস খেললেও ব্যাটিংয়ে তিনি এখনো ধারাবাহিক নন। অন্যদিকে, অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই। নাসুম আহমেদকে বর্তমান সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে একাদশে রাখা হয়নি, তবে তার ব্যাটিং করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা নিয়মিত নয়।
দলের ভারসাম্য ও অলরাউন্ডারের অভাব
সাত নম্বর পজিশন নিয়ে লিটন দাসের কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বোলিং কোটা পূর্ণ করার বাধ্যবাধকতার কারণে সেই পজিশনে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার খেলানো সম্ভব হয় না। লিটন বলেন, “সাত নম্বরে যদি আমি শুধু একজন ব্যাটার খেলাই, তবে বোলিংয়ের চার ওভারের কোটা পূরণ করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের দলে এমন কোনো ক্রিকেটার থাকলে যে সাত নম্বরে ভালো ব্যাটিং করার পাশাপাশি মানসম্মত চার ওভার বোলিংও করতে পারবে, তবে অবশ্যই জানাবেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলে একজন প্রকৃত ‘হার্ড হিটিং’ অলরাউন্ডারের শূন্যতা ফুটে উঠেছে।
সিরিজের ফলাফল ও সিরিজ সেরা তাওহীদ হৃদয়
গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়লাভ করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের বড় সুযোগ ছিল। তবে মিরপুরের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সহজ জয় সিরিজ সমতায় ফেরায়।
নিউজিল্যান্ডের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন বেভান জ্যাকবস। অন্যদিকে, পুরো সিরিজে স্থিতিশীল ব্যাটিং প্রদর্শনের জন্য ‘সিরিজসেরা’ বা ম্যান অফ দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়।
আবহাওয়া ও বিপর্যয়ের কারণ
অধিনায়ক লিটন দাস পরাজয়ের পেছনে আবহাওয়াকে মূল অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাননি। তার মতে, ইনিংসের শুরুতে ৪.৪ ওভারে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারানোই ছিল ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তনের মূল কারণ। বৃষ্টির বিরতির পর উইকেটের আচরণ পরিবর্তিত হওয়া এবং দ্রুত রান তোলার চাপে উইকেটে স্থির হতে না পারা পরাজয়ের পেছনে প্রভাব ফেলেছে। তবে লোয়ার-অর্ডারের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট এবং ক্যামিও ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপই লিটনের বক্তব্যে প্রধান হয়ে ধরা দিয়েছে। সতীর্থদের ব্যাটিং নিয়ে অধিনায়কের এই প্রকাশ্য সমালোচনা ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
