যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার পর অ্যাকাউন্ট স্থগিতের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা মামলায় ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় আড়াই কোটি) পরিশোধে সম্মত হয়েছে ইউটিউব।
এ মাধ্যমে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হামলার পর অ্যাকাউন্ট নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে অ্যালফাবেট মালিকানাধীন এই সংস্থার সঙ্গে।
২৪.৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের মাধ্যমে গুগল ইউটিউব অন্য তিন বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে শেষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রাম্পের মামলার নিষ্পত্তি করেছে।
ট্রাম্প ২০২১ সালের জুলাইয়ে ইউটিউবের পাশাপাশি এক্স (সাবেক টুইটার) এবং মেটা (ফেসবুক)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, এসব প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে রক্ষণশীল মতামতকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছে।
এর মধ্যে মেটা ও এক্স চলতি বছরের শুরুতেই মীমাংসায় পৌঁছেছে। জানুয়ারিতে মেটা ২৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা করেছে, যার ২২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ হয়েছে ট্রাম্পের পরিকল্পিত প্রেসিডেন্ট লাইব্রেরি (মায়ামি) নির্মাণ তহবিলে। ফেব্রুয়ারিতে এক্স প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারে মামলার নিষ্পত্তি করেছে।
ইউটিউবের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী, ২২ মিলিয়ন ডলার যাবে ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল-এ, যা একটি অলাভজনক সংস্থা। এই তহবিল থেকে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের নির্মাণাধীন ২০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুমের অর্থায়ন হবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ ভবন ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাকি অর্থ বিতরণ হবে মামলার অন্যান্য বাদীদের মধ্যে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন এবং মার্কিন লেখিকা নাওমি উলফ। আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন মূলত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স আয়োজন করে থাকে।
ইউটিউব অবশ্য স্বীকার করেনি যে তারা কোনো বেআইনি কাজ করেছে এবং সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।
উল্লেখযোগ্য, ক্যাপিটল হামলার পর ট্রাম্পকে ২০২১ সালে ইউটিউব থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়নি, তবে নতুন ভিডিও আপলোডে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে তার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা হয়।
মামলাগুলোর সূত্রপাত হয়েছিল বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট সীমিত করার সিদ্ধান্ত থেকে। প্ল্যাটফর্মগুলো জানায়, তার কার্যক্রম আরও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সূত্রঃ টিআরটি ওয়ার্ল্ড
