ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। বমি ও নিম্ন রক্তচাপজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তার ত্বকের ক্যানসার সনাক্ত করেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বলসোনারোর শরীরে প্রাথমিক স্তরের ত্বকের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে।
- বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তার শরীরে “স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা” ধরা পড়েছে।
- চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি মাঝারি ধরনের ক্যানসার, অর্থাৎ সবচেয়ে হালকা ও সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধাপের মাঝামাঝি।
- তার অনকোলজিস্ট ক্লাউদিও বিয়ারোলিনি জানান, ক্যানসারটি বর্তমানে “ইন সিটু” পর্যায়ে রয়েছে, অর্থাৎ অস্বাভাবিক কোষ শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েনি।
- অস্ত্রোপচারই এর চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট হবে বলে চিকিৎসকরা আশা করছেন।
হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবস্থা
- ৭০ বছর বয়সী বলসোনারো মঙ্গলবার ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
- গত রবিবার তার বুক ও হাতে থাকা ক্ষতস্থানের টিস্যু অপসারণের পরীক্ষায় ক্যানসার শনাক্ত হয়।
- বর্তমানে তার শরীরে সেলাই ও ব্যান্ডেজ রয়েছে, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে খোলা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- বুধবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফেরেন এবং সেখানেই গৃহবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বলসোনারো এর আগেই ২০২২ থেকে ২০২৩ সালে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গৃহবন্দি ছিলেন। সম্প্রতি তাকে ২৭ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরেস নির্দেশ দিয়েছেন, গৃহবন্দিত্বে থাকলেও চিকিৎসা জরুরি হলে তিনি বাসার বাইরে যেতে পারবেন। তবে প্রতিবারই তার আইনজীবীদের আদালতে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
- সমর্থকরা তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে বলছেন, কারাগারে পাঠালে তার শারীরিক জটিলতা ও দুর্ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন: “আমার বাবা আগেও কঠিন লড়াই লড়ে জয়ী হয়েছেন। এবারও ভিন্ন কিছু হবে না।”
