খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই মে ২০২৬, ১২:৪২ এএম

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘সুবিধাবাদী’দের স্থান দেওয়ার অভিযোগে আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা কয়েক ঘণ্টা জনজীবনকে স্থবির করে রাখে।
Table of Contents
সোমবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল নগরীর আমতলার মোড় এলাকায় পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে আকস্মিক বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে এবং ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু শ্লোগানে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে দূরপাল্লার নৈশকালীন বাস, অ্যাম্বুলেন্স এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে এই কর্মসূচির কারণে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধ পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের নেতা আসাদুল্লাহ হাওলাদার এবং রেদওয়ান খান রাকিব তাঁদের বক্তব্যে সদ্য ঘোষিত কমিটির বৈধতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা দাবি করেন, বিগত বছরগুলোতে দলের প্রতিটি দুঃসময়ে তাঁরা হামলা-মামলা ও কারাবরণ করেও রাজপথ ছাড়েননি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাঁদের মতো সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আসাদুল্লাহ হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমরা দলের কঠিন সময়ে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং জেল-জুলুম সহ্য করে আন্দোলন-সংগ্রাম চাঙ্গা রেখেছি। অথচ এখন যখন ত্যাগের ফসল পাওয়ার সময়, তখন আমাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি কোনোভাবেই সাধারণ কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়নি। এটি মূলত একটি পকেট কমিটি।”
রেদওয়ান খান রাকিব জানান, তাঁরা কমিটির আমূল পরিবর্তনের চেয়ে বরং বাদ পড়া ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের এই কমিটিতে যথাযথ মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শিক রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে ত্যাগীদের মূল্যায়নের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগের আগেই ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“আমতলার মোড়ে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত কিছু কর্মী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাঁরা স্থান ত্যাগ করেন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের এই কোন্দল কেবল একটি সড়ক অবরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বড় ধরণের সাংগঠনিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগে যদি ছাত্রদলের ভেতরে এমন বিভক্তি বজায় থাকে, তবে আগামী দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিন পর মহানগর ছাত্রদলের কমিটি হলেও তাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন না ঘটায় তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যদিও স্থানীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও পদবঞ্চিতরা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমতলার মোড়সহ নগরীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহানগর ছাত্রদলে
মন্তব্য