দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে কালো আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে ঐতিহাসিক লালকেল্লা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা লালকেল্লার দেয়ালে কালো আস্তরণ জমে যাচ্ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যথাসময়ে ব্যবস্থা না নিলে এই দূষণের কারণে স্থাপনার সূক্ষ্ম খোদাই ও নকশা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণার প্রধান তথ্য

  • লালকেল্লার লাল বেলেপাথরের দেয়ালে ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পুরু কালো আস্তরণ পাওয়া গেছে।
  • আস্তরণটি মূলত বাতাসের দূষক কণার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয়েছে।
  • এটি ধীরে ধীরে খিলান, গম্বুজ, সূক্ষ্ম খোদাই ও স্থাপনার নান্দনিক উপাদানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
  • গবেষণার সময় দেয়ালে ফোস্কা পড়া ও খোসা ওঠার মতো ক্ষতির প্রমাণও পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রকাশনা

  • লালকেল্লার ওপর দূষণের প্রভাব নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণা।
  • ভারত ও ইতালির গবেষকরা ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
  • ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের জুনে আন্তর্জাতিক জার্নাল হেরিটেজ-এ।

 

দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে একটি, বিশেষ করে শীতকালে এর বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

  • ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে বলেছিল, দূষণের কারণে তাজমহলের সাদা মার্বেল হলুদ ও সবুজাভ বাদামি রঙ ধারণ করেছে।
  • আদালত উত্তর প্রদেশ সরকারকে তখন সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিল।
  • সংরক্ষণবিদরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো বায়ু ও পানিদূষণের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

লালকেল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্ব

  • মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত এই স্থাপনাটি দিল্লির অন্যতম প্রতীকী নিদর্শন ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।
  • ১৯৪৭ সালের ১৬ আগস্ট, স্বাধীনতার পরদিন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এখানেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
  • তারপর থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভাষণ দিয়ে আসছেন।

দূষণের প্রভাব নিয়ে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ

  • বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM 2.5 এবং PM 10) এবং অন্যান্য দূষক পদার্থ দেয়ালে জমে কালচে রং ও দাগ তৈরি করছে।
  • গবেষকরা বলেছেন, কালো আস্তরণ জমা হওয়া একটি ধীর প্রক্রিয়া।
  • প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সরানো সম্ভব হলেও সময় বাড়লে আস্তরণ পুরু হয়ে যায় এবং স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।

 

গবেষণাপত্রে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

  • দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
  • সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলোতে বিশেষ সুরক্ষা উপাদান বা সিলান্ট ব্যবহার করলে কালো আস্তরণ তৈরি ধীর করা বা বন্ধ করা যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি