দোহায় হামলার জন্য নেতানিয়াহুকে শাস্তি পেতেই হবে: কাতার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দোহায় বিমান হামলার নির্দেশ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন এবং এজন্য তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কাতার।

 

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দোহায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা বৃথা যায়নি; বরং এই হামলার মাধ্যমে কাতারকে একটি স্পষ্ট ‘বার্তা’ পাঠানো হয়েছে।

 

কয়েক ঘণ্টা পর দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি। তিনি বলেন:“ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তার বেপরোয়া নীতির কারণে প্রতিটি ব্যর্থতার পর তা ঢাকার চেষ্টা করেন। আমরা তার এই স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু দোহায় হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য তিনি কোনোভাবেই শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবেন না।”

পটভূমি: কাতার হামাস

  • ২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশে কাতারে বসবাস করছেন হামাসের শীর্ষ নেতারা।
  • গাজা যুদ্ধের মধ্যস্থতায় কাতার অন্যতম প্রধান দেশ; বাকি দুটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর।
  • ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ইরানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।
  • একই বছরের ১৬ অক্টোবর গাজায় নিহত হন তার উত্তরসূরী ইয়াহিয়া সিনওয়ার।
  • এরপর হামাসের নেতৃত্বে আসেন খলিল আল হায়া।

 

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে একটি ভবনে বোমা বর্ষণ করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।

  • হামলা স্থায়ী হয় মাত্র ১৫ মিনিট।
  • এতে ৬ জন নিহত হন।
  • তবে খলিল আল হায়া ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ হামাস নেতা প্রাণে বেঁচে যান।

এই হামলার পর বিশ্বের প্রায় সব দেশ ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে।

 

গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মাজেদ আল আনসারি বলেন:

  • “কাতার এখন সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বিশ্বাসঘাতক ইসরায়েলি হামলার জবাব দেওয়া, ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকানো এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর।”
  • তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যান্য সব রাজনৈতিক বিবেচনা এখন গৌণ।”

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি