বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষায় এবং পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীন ও রাশিয়া রোববার থেকে জাপান সাগরে যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়াটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক প্রভাব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি যৌথ প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মহড়ার নাম ও সময়সূচি
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক বন্দরের নিকটবর্তী জলসীমায় শুরু হওয়া এই মহড়ার নাম “জয়েন্ট সি–২০২৫”, যা তিন দিনব্যাপী চলবে
মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত কৌশল ও অংশগ্রহণকারী যুদ্ধজাহাজ
উভয় দেশের নৌবাহিনী নিম্নলিখিত কার্যক্রমের অনুশীলন করছে:
- সাবমেরিন উদ্ধার অভিযান
- যৌথ সাবমেরিন-বিধ্বংসী কৌশল
- বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা
- সামুদ্রিক যুদ্ধ পরিচালনা
মহড়ায় অংশ নিচ্ছে:
| দেশ | যুদ্ধজাহাজ |
| চীন | গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী শাওক্সিং, উরুমকিসহ মোট চারটি জাহাজ |
| রাশিয়া | বিভিন্ন নৌযান ও সমর্থন ইউনিট |
মহড়ার পর দুই দেশ প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট জলসীমায় যৌথ নৌ-টহল পরিচালনা করবে।
সামরিক সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
চীন ও রাশিয়া ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত যৌথ মহড়া চালিয়ে আসছে। গত বছর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল চীনের দক্ষিণ উপকূলে।
বিশেষ করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে চীন-রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার বলেছে:
“এই বছরের মহড়ার উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান
| বিষয় | চীনের অবস্থান |
| রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ | কখনও সরাসরি নিন্দা করেনি |
| সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান | দেয়নি |
| নিজেদের পরিচয় | ‘নিরপেক্ষ পক্ষ’ হিসেবে উপস্থাপন |
| পশ্চিমা দেশের ভূমিকা সম্পর্কে অভিযোগ | ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে বলে দাবি |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউক্রেনের মিত্ররা বিশ্বাস করে, চীন প্রকৃতপক্ষে মস্কোকে নানাভাবে সহায়তা করছে, যদিও চীন তা অস্বীকার করে এবং বরাবরই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
চীন-রাশিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়া শুধু সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এটি বর্তমান বিশ্বশক্তির নতুন মেরুকরণ এবং একটি বিকল্প জোট গঠনের ইঙ্গিতও দেয়।
