জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেনকাই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রের দুটি চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, দেশটির পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি (NRA) বলেছে, শনিবার রাতে জেনকাই কেন্দ্রের অপারেটর ড্রোনগুলো প্রথম শনাক্ত করে। জাপানের সাগা প্রিফেকচারে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি পরিচালনা করে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রাথমিক তদন্ত
NRA ও স্থানীয় পুলিশ জানায়, জাপানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর ও কাছাকাছি ড্রোন উড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এনআরএ’র এক মুখপাত্র বলেন:
“ঘটনার পর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হয়েছে। কোনও অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি এবং কেন্দ্রের অভ্যন্তরেও কোনও ড্রোন পাওয়া যায়নি।”
পুলিশের পক্ষ থেকে মাসাহিরো কোশো বলেন,
“ড্রোনগুলোর উদ্দেশ্য এখনো অজানা।”
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ঘটনার পর চারটি চুল্লির মধ্যে দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যদিও বাকি দুটি এখন পর্যন্ত সচল রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর জাপান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড চালু করে। ওই ঘটনার ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় পারমাণবিক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় দেশটি।
চলতি বছরের শুরুতে জাপান সরকার পারমাণবিক শক্তির পুনঃব্যবহার শুরু করেছে এবং ৬০ বছরেরও বেশি পুরনো পারমাণবিক চুল্লিগুলোর পুনঃচালনার অনুমতি সংক্রান্ত একটি আইন কার্যকর করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর প্রতি নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এবং এই ড্রোন ঘটনার মাধ্যমে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
