কম্বোডিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সংলাপে আগ্রহী থাইল্যান্ড, যুদ্ধবিরতিতে নীতিগত সম্মতি

সীমান্তে কয়েকদিন ধরে চলা সংঘর্ষ বন্ধে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সংলাপে বসতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড। শনিবার রাতে থাই সরকার জানায়, তারা যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত, তবে কম্বোডিয়ার আন্তরিকতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়েছে এবং ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ

যুক্তরাজ্যের টার্নবেরি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দেশের নেতার সঙ্গেই ফোনে কথা বলেছেন এবং উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইয়ের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়:

“থাইল্যান্ড নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে একমত হয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে থাই সরকার।”

থাইল্যান্ড আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি কম্বোডিয়ান নেতাকে অবহিত করেন যে,

“থাইল্যান্ড যত দ্রুত সম্ভব দ্বিপাক্ষিক সংলাপ শুরু করতে চায়, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া ও পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ নির্ধারণ সম্ভব হবে।”

ট্রাম্পের বিবৃতি

শনিবার স্কটল্যান্ড সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে বলেন:

“কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা দু’জনেই তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকে বসতে এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।”

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট

গত তিন দিন ধরে থাই ও কম্বোডিয়ান সেনারা যৌথ সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে শুধু প্রাণহানিই হয়নি, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বহু সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে দেড় লক্ষ ছাড়িয়েছে।

এ মুহূর্তে আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এই দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি, এমনটাই মত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।