দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩, যুদ্ধবিরতি চুক্তি আবারও লঙ্ঘিত

ইসরায়েল শনিবার ফের দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই হামলা আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলা টায়ার ও বিন্ত জাবেইল অঞ্চলে চালানো হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহ জঙ্গি ও তাদের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।

হামলার বিস্তারিত

এলাকাহামলার ধরনহতাহতের বিবরণউৎস
টায়ার জেলাড্রোন হামলা১ জন নিহতলেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
বিন্ত জাবেইলবিমান হামলাহিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত (দাবি)ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
দেবাল, টায়ার জেলাবিমান হামলাবাড়ি লক্ষ্য করে হামলায় ২ জন নিহতলেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও এনএনএ

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, দেবাল শহরের টায়ার জেলায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও দু’জন প্রাণ হারান।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডারকে হত্যা করেছে, যিনি সীমান্ত এলাকায় সংগঠন পুনর্গঠনের কাজে জড়িত ছিলেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা

২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা হিজবুল্লাহর সঙ্গে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে করা হয়েছিল।

চুক্তির মূল শর্তাবলি ছিল:

  • হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে লিতানি নদীর ওপারে সরে যেতে হবে।

  • ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী

  • ইসরায়েলকে তাদের সমস্ত সেনা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

তবে বাস্তবে, ইসরায়েল এখনো পাঁচটি কৌশলগত এলাকায় সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত তারা অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।